মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় । সেরা উপায় 2021

আপনার কি মোবাইল স্লো হয়ে গেছে? মোবাইল মাঝে মধ্যেই হ্যাং করে বা অ্যাপ হ্যাং হয়ে? আপনি যদি আপনার ফোনের বা মোবাইলের স্পীড বাড়াতে চান তাহলে একদম সঠিক জায়গায় আসছেন। আজকে আমরা কথা বলব মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় নিয়ে। 

আজকে আমরা কথা বলব কিভাবে মোবাইলের স্পীড বাড়াবেন সেই সম্পর্কে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

অনেকেই আছেন যারা মোবাইল কিনছেন বেশী দিন হয়নি। কিন্তু মাঝে মাঝেই মোবাইল স্লো হওয়া, হ্যাং করা ইত্যদি সমস্যায় ভুগছেন। তাই সেই সমস্যার সমাধান দিতেই আজকে আপনাকে এমন কিছু টিপস দিব যেগুলো করলে আপনার ফোনের স্পীড অনেকটাই বেড়ে যাবে এবং হ্যাং হওয়া এবং স্লো হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় জানার আগে চলুন প্রথমে কথা বলি ফোন স্লো হওয়ার কিছু কারণ নিয়ে।

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণগুলি ঃ

  • একাধিক অ্যাপ এক সাথে ব্যাবহার করা।
  • ব্যাকগ্রাউন্ড এ একাধিক অ্যাপ রান হওয়া।
  • ফোনের ভার্সনের সাথে অ্যাপ এর ভার্সন সাপোর্ট না করা।
  • ফোনের স্টোরেজ মেনেজমেন্ট। 
  • এক্সট্রা মেমোরি কার্ড ব্যাবহার করা।
  • মোবাইল ব্যাবহার করার সময় কিছু ভুল করা।

তাহলে চলুন কথা বলি কিভাবে এই সমস্যা গুলি থেকে মুক্তি পাবেন এবং মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় নিয়ে।  

কিভাবে মোবাইলের স্পীড বাড়াবেন;

আগে জেনেছি কি কি কারণে মুলত মোবাইলের স্পীড কমে যায় যার ফলে হ্যাং, ল্যাক ইত্যদি সমস্যায় ভুগেন অনেকেই। 

কারণ গুলি যেহেতু জেনে নিলাম তাহলে চলুন এইবার জেনে নেই যে এই কারণগুলি কিভাবে এরিয়ে চলতে পারেন এবং মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায়।

মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায়

মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় ;

একাধিক অ্যাপ এক সাথে ব্যাবহার না করাঃ

আমাদের মধ্যে এমন অনেম মানুষ আছি যারা একটা অ্যাপ এর কাজ শেষ হলে সেটাকে মিনিমাইজ / Minimize করে রেখে দেই। এর ফলে অ্যাপ টি ক্লোজ হয় না এবং ফোনের উপর তখন চাপ পরে বেশী। 

আমরা যখন একটি অ্যাপ সঠিক ভাবে ক্লোজ না করে অন্য আরেকটা অ্যাপ ওপেন করি এর ফলে আপনার ফোনকে এক সাথে অনেকগুলো কাজ করতে হয় এবং চাপ বেশী সৃষ্টি হয়। যার ফলে অনেক সময় আমাদের অ্যাপ হ্যাং হয় আবার ফোন হ্যাং হয় ইত্যদি সমস্যা ভুগি। তাই অবশ্যই অ্যাপ এর কাজ শেষ হলে সেটাকে একদম ক্লোজ করে দিবেন, মিনিমাইজ / Minimize করে রাখবেন না!

ব্যাকগ্রাউন্ড এ একাধিক অ্যাপ রান যেন না হয়ঃ

অ্যাপ ক্লোজ করার পরই আপনার কাজ শেষ না। আপনার অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ড এ অনেক অ্যাপ রান হচ্ছে যেমনঃ ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যদি। আপনি চাইলেও সেগুলিকে রান হওয়া থেকে আটকাতে পারবেন না। তবে সেটিংস এ গিয়ে Force Stop করলে আটকাতে পারবেন তবে এতে পরে আপনাকেই সমস্যায় পরতে হবে।

তাহলে কিভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড এ অ্যাপ রান হওয়া বন্ধ করবেন? ওয়েল, তার জন্য অবশ্যই ব্যাবহার শেষে অ্যাপ ক্লোজ করার পাশাপাশি আপনাকে ইন্টারনেট কানেকশন অফ করতে হবে। 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যাদের ইন্টারনেট কানেকশন রাত দিন ২৪ ঘন্টাই অন থাকে। এর ফলে আমাদের ফোন দ্রুত স্লো হয় কারণ মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ড এ অটোমেটিক অনেকগুলো অ্যাপ রান হতে থাকে এবং ফোনের উপর সারাদিন ই চাপ ফেলে এবং অল্প বয়সে মোবাইল আহত হয়,, হাহা মজা করলাম মানে মোবাইলের হ্যাং হওয়া বা স্লো হয় আরকি। তাই অবশ্যই ব্যাবহার শেষে ফোনের ইন্টারনেট কানেকশন টি অফ করে দিবেন যেন এই অ্যাপ গুলো ব্যাকগ্রাউন্ড এ রান হতে না পারে। 

ফোনের ভার্সনের সাথে সাপোর্টেড অ্যাপ ব্যাবহার করা।

আমাদের সবার এন্ড্রয়েড ফোনের ই একটা ভার্সন আছে। যেমনঃ এন্ড্রয়েড ভার্সন ১০, ৯ ইত্যদি। আর আমরা ফোনে অনেক অ্যাপ ব্যাবহার করি যেগুলো হয়তো অনেক পুরনো এবং সেই অ্যাপ গুলো আমরা আপডেট দেই না যার ফলে অ্যাপ টি আমাদের ফোনের ভার্সনের সাথে ঠিক ঠাক মতো এডজাস্ট করতে পারে না বা চলতে পারে না। 

তাই অ্যাপ গুলোকে প্রতিনিয়ত আপডেট দিয়ে রাখবেন। পাশাপাশি ফোন আপডেট দেওয়ার সময় একটু অপেক্ষা করবেন। কারণ ফোনে যে আপডেট গুলো আসে সেগুলো আসার সাথে কিছু অ্যাপ অটো ইন্সটল হয় যার ফলে ফোন কোম্পানি গুকো চেকিং করে যে আপডেট টি কেমন কাজ করছে আর এই অ্যাপ গুলো অনেক বেশী হেভি হয়ে থাকে। 

তাই আপডেট দেওয়ার আগে একটু অন্য সবার থেকে ওয়েট করুন। দেখুন যে তাদের আপডেটের ফলে কি কি লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট।

আমরা সব চেয়ে বেশী যে সমস্যায় পড়ি সেটা হলো স্টোরেজ নিয়ে। বেশীর ভাগ ফোন চেক করলেই দেখা যাবে স্টোরেজ ফুল হয়ে আছে নয়তো বা দেখা যাবে অল্প একটু স্টোরেজ বাকি আছে, সেটাও সে অনেক কষ্টে অনেক কিছু ডিলিট করে খালি করছে। মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় গুলির মধ্যে অন্যতম হলো স্টরেজ ম্যানেজমেন্ট। 

আমাদের ফোন স্লো হওয়ার মেইন একটি কারণ হলো স্টোরেজ কম থাকা। অর্থাৎ ফোনের যে স্টোরেহ আছে সেটা ফুল হয়ে যায় বা অল্প একটু স্টোরেজ খালি থাকে। আর এর ফলে আমাদের ফোনের ডাটা ট্রান্সফার এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। অ্যাপ যখন ওপেন করি তখন অ্যাপ এর ডাটা গুলি ঠিক মতো ট্রান্সফার হয় না স্টোরেজ কম থাকার কারণে। 

যার ফম স্বরুপ অ্যাপ হ্যাং করে। দেখা যায় অ্যাপ ওপেন করছি কিন্তু অ্যাপ আটকে আছে, অথবা ব্ল্যাক একটা স্ক্রিন চলে আসছে। এই ধরনের আরো অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয় স্টোরেজ কম থাকার ফলে এবং ফোন স্লো হয়ে যায়। তাই ফোন স্লো হওয়া থেকে বাচাতে চাইলে অবশ্যই ফোনের স্টোরেজ এনাফ পরিমাণ খালি রাখতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ এর ৩০% এর উপর জায়গা খালি রাখা ভালো। এর ফলে স্টোরেজ নিয়ে ফোনে যে যে সমস্যা হয় সেই সমস্যা গুলো আর হবে না। এবং আপনার ফোন স্লো হওয়ার চান্স অনেক টা কমে যাবে।

আরো পড়ুনঃ ২০২১ সালের সেরা গেমিং ফোন

এক্সট্রা মেমোরি কার্ড ব্যাবহার করা।

আমি স্ট্রংলি সাজেস্ট করব এক্সট্রা মেমোরি কার্ড ব্যাবহার করবেন না। কারণ ফোন স্লো হওয়ার একটি বড় কারণ হলো মেমোরি কার্ড ব্যাবহার করা। কম দামে যে মেমোরি কার্ড গুলো বাজারে পাওয়া যায় সেগুলি অরজিনাল মেমোরি কার্ড না এবং এই মেমোরি কার্ড গুলো আপনার ফোনকে স্লো করার জন্য অনেক বেশী ভুমিকা পালন করে।

এন্ড্রয়েড ফোনে বর্তমানে আগের চেয়ে বেশী ইন্টারনাল স্টোরেজ বা রম দেওয়া হয় যেন এক্সট্রা মেমোরি ব্যাবহার করা না লাগে। রম এবং রেম দুইট আলাদা জিনিস। রম হলো ইন্টারনাল স্টোরেজ। তবে যদি আপনার বেশী প্রয়োজন হয় মেমোরি কার্ড এর তাহলে একটু দাম বেশী দিয়ে ভালো এবং অরজিনাল মেমোরি কার্ড কিনুন। সত্য কথা বলতে বাংলাদেশে অনেক কম সংখ্যক অরজিনাল মেমোরি কার্ড ই পাওয়া যায় তাই অরজিনাল মেমোরি কার্ড পাওয়ার চান্স কম।

পড়তে পড়তে যেহেতু এত দূর চল আসছেন তাহলে চলুন আপনাকে ফ্রীতে আরো কয়েকটা টেকনিক বলি যেন ফোনের স্পীড আরো বাড়াতে পারেন।

একটি সিম ব্যাবহার করুন।

যদি আপনার প্রয়োজন না হয় দুইটি সিমের তাহলে আমি বলব যেকোন একটি সিম ব্যাবহার করুন। এর ফলে আপনি অনেক ভালো ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারবেন আর সাথে ফোনের জন্যেও অনেক বেশী ভালো হবে এবং ফোনের স্পীড বাড়াতেও সাহায্য করবে। মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় জানতে হলে একটি সিম ব্যাবহারের গুরুত্ব অনেক। এতে মোবাইলের স্পীড অনেক বেড়ে যায় এবনফ ইন্টারনেট ব্যাবহারে স্পীড বেশী পাবেন। 

ফোন প্রতিদিন ১ বার রিস্টার্ট দিন।

আপনি হয়তো জানেন না অনেক অ্যাপ আছে যেগুলো হ্যাং হয়ে আছে। আপনি অ্যাপ ওপেন না করলেও অনেক সময় ফোনের কিছু অ্যাপ হ্যাং করে বা ক্রাশ করে তাই প্রতিদিন একবার করে রিস্টার্ট দিলে সেই অ্যাপ গুলো আবার চালু হয় এবং ফোনের ব্যাটারি, প্রসেসর সব কিছু ভালো থাকে।

নেট স্লো থাকলে ইন্টারনেট কানেকশন অফ রাখুন।

সব চেয়ে বেশী চার্জ শেষ হয় যখন ফোনের ইন্টারনেট কানেকশন স্লো থাকে। কারণ যখন নেট কম মিলে তখন ফোনের স্পীড টাও কমে যাবে। আর সিম টি ইন্টারনেট খুজতে থাকবে আর সেক্ষেত্রে দুইটা সিম ব্যাবহার করলে আরো বেশী দ্রুত চার্জ শেষ হবে। আর ফোন টি বার বার হ্যাং করবে। 

তাই যে জায়গা গুলিতে নেট কম সেখানে একটি সিম ব্যাবহার করুন অথবা পারলে ফোনটি অফ রাখুন বা নেট কানেকশন অফ রাখুন।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস ডিলিট করুন।

বেশী দিন ধরে ফোন ব্যাবহার করলে এমনিতেই অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ফাইল জমা হয় ফোনে। সেগুলি একটু চেক করে ডিলিট করে দিন। ফোনকে যতটা সম্ভব খালি রাখুন। এক সাথে কম কাজ করুন ফোনে। 

আজকের যত গুলো টিপস শেয়ার করছি সেই গুলো মেনে ফোন ব্যাবহার করলে আপনার ফোনের স্পীড অনেক বেড়ে যাবে। আর ফোন হ্যাং হওয়া, স্লো হওয়া ইত্যদি থেকে মুক্তি পাবেন। তো বন্ধুরা এই ছিল আজকের আর্টিকেল আর আশা করি বুঝতে পারছেন যে মোবাইলের স্পীড বাড়ানোর উপায় কি কি।ভালো লাগলে অবশ্যই পোস্ট এর লিংক টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন যেন তারাও তাদের ফোনের স্পীড বাড়াতে পারে। ভালো থাকবেন ধন্যবাদ। 

also visit: softweet.com